সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন যে, খার্তুম স্বাধীন হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) খার্তুম বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে গিয়ে এই ঘোষণা করেন।
প্রায় দুই বছর পর তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে গত ২১ মার্চ সেনাবাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) থেকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পুনরুদ্ধার করে। এর পরের দিন, ২২ মার্চ সেনাবাহিনী কেন্দ্রীয় ব্যাংকও দখল করে নেয়। এরপর, বুধবার খার্তুম বিমানবন্দরও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিমানবন্দর পুনরুদ্ধারের দিনই, সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে গিয়ে খার্তুমকে স্বাধীন ঘোষণা করেন।
বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর, সেনারা খার্তুম বিমানবন্দরের আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর, আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ রাজধানীর একটি অংশ দিয়ে পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনী, মধ্য খার্তুমের দক্ষিণে অবস্থিত আরএসএফ-এর বৃহৎ ঘাঁটি জেবেল আউলিয়া এলাকাও ঘিরে ফেলেছে।
২০১৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রনায়ক ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সুদানের সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশটির কার্যত শাসক। তার ডেপুটি হিসেবে আছেন আরএসএফ প্রধান জেনারেল মুহাম্মদ হামদান দাগালো। ২০২১ সাল থেকে এই দুজন সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেন। তবে, বুরহান আরএসএফকে মূল সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিলে দাগালো এবং বুরহানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যা ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে তীব্র সংঘাতে পরিণত হয়।
এই লড়াইয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, এবং এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশেষত, খার্তুম অঞ্চল থেকে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলতে থাকলেও, সেনাবাহিনী আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এবং বিমানবন্দর পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। নীল নদ অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রপতি ভবনকে পুনরুদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রেখেছে।